বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
শাহজালালে যাত্রীর পায়ুপথে মিললো ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার ৩ ‘সোনার ডিম’ বটিয়াঘাটা ভূমি অফিসের আইডি হস্তান্তর না করায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে খুলনার বটিয়াঘাটায় আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব -২০২৬ উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা লালমনিরহাটে রঙ মিশ্রিত মুগডাল বিক্রিতে জরিমানা, দুধের মান পরীক্ষায় সন্তোষজনক নবীনগর–কৃষ্ণনগর সড়কে খানাখন্দ, চরম দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক পঞ্চগড়ে নাশকতা মামলায় সাতমেরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান গ্রেপ্তার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টিপসই, বিধবাকে বিয়ে করার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মেয়ে সেজে প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম করতেন শান্ত, মোবাইলে বিয়ে, সঙ্গ দিতেন বাবাও নরসিংদীর শিবপুরে মোবাইল কোর্ট চলমান থাকবে বললেন সামিউর রহমান সহকারী কমিশনার( ভুমি) স্বামীর দাফনের এক ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু, একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর বিদায়
ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টিপসই, বিধবাকে বিয়ে করার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টিপসই, বিধবাকে বিয়ে করার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

ডেস্ক রিপোর্ট:: ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবার (৪৩) জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়েছিল। কয়েক দিন পর ডেকে নিয়ে একটি কাগজে তার টিপসই নেওয়া হয়। এরপর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে,জামায়াতের নেতা আবদুস ছাত্তার সাথে ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেছে। তাকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়। তবে তিনি কোনও বিয়েতে সম্মতি দেননি বলে দাবি করেন।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকও করেছেন। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে কৌশলে টিপসই নেন স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার। সেই টিপসই ব্যবহার করেই জালিয়াতি করে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।

প্রায় ১৩ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর মানুষের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। তার নাতি-নাতনিও আছে। গতকাল বুধবার তার বাড়িতে গিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি দাবি করেন, ‘আমি কোথাও বিয়ে করতে যাইনি। কোনও কাজিকেও দেখিনি।’


অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার কসমেটিকসের দোকান আছে। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ওই নারীর কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনও টিপসই নেননি। এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছি। তিনি (ছাত্তার) জামায়াতের পদধারী কোন নেতা নন; বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। শুনেছি আগে তিনি বিএনপি করতেন এরপর জামায়াতে যোগ দেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা চাই, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।’


ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম আছে। তিনি আগেও বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কখনও প্রস্তাবে রাজি হননি। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, ছেলেমেয়েসহ নাতি-নাতনি আছে

বাড়িতে কুদ্দুসকে না পাওয়া গেলেও স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়ে তার স্বামী তাকে আগে কখনও কিছু জানাননি। ঘটনা জানাজানি হলে দাবি করেন, তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন; কিন্তু তিনি কারও কথা শোনেননি।

কাবিননামায় দেখা যায়, কাজি গোলাম মোস্তফা বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ আছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম আছে। সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কোনও বিয়ের সাক্ষী হননি।

কাজি গোলাম মোস্তফা এই বিয়ের কিছু সম্পন্ন করেননি বলে জানান। তার দাবি, যে কাগজ ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ জাল। এর আগে ২০২০ সালে এমন একটি জাল কাগজ তৈরি হওয়ায় ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবার কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন।

গত সোম ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিশ বসেছে। তবে সালিশে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন না। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও আবদুস ছাত্তার অবস্থান স্পষ্ট না করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালিশে নেতৃত্বে দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী। তিনি বলেন, ‘কীভাবে কী হলো, আমরা যাচাই করছি। সালিশের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, ঘটনাটি তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন। কিন্তু এখনও থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com